সকাল মানেই এক নতুন শুরু, নতুন শক্তি সঞ্চয়ের সময়। কিন্তু আধুনিক জীবনে আমাদের সকালটা শুরু হয় অ্যালার্ম বন্ধ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইমেইল বা খবরের পোর্টাল স্ক্রল করার মাধ্যমে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দিনের শুরুতেই এই অভ্যাসটি আমাদের শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘুম ভাঙার পর মোবাইল ব্যবহার শরীরে কী কী ক্ষতি করছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
মানসিক চাপ বৃদ্ধি
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক তখন শান্ত থাকে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই যখন আমরা ফোনে চোখ রাখি, তখন একসাথে প্রচুর তথ্য, নেতিবাচক খবর বা কাজের মেইল আমাদের সামনে চলে আসে। এর ফলে শরীর হঠাৎ করেই কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই দিনের শুরুতেই মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়।
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়া
বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ডেল্টা তরঙ্গ থেকে থিটা এবং তারপর আলফা তরঙ্গে প্রবেশ করে। এটি আমাদের সৃজনশীলতা এবং শান্ত থাকার জন্য জরুরি। কিন্তু হঠাৎ করেই স্ক্রিনের দিকে তাকালে মস্তিষ্ক সরাসরি বেটা তরঙ্গে চলে যায়, যা উচ্চ সতর্কবার্তা এবং মানসিক চাপের সংকেত দেয়। এর ফলে সারাদিন কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ
অন্ধকার ঘরে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলের তীব্র আলোর দিকে তাকালে চোখের রেটিনার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এর ফলে: চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং ঝাপসা দেখা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি
ঘুম থেকে উঠেই বিছানায় শুয়ে বা অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে ফোন ব্যবহারের কারণে ঘাড় এবং পিঠের পেশিতে হঠাৎ টান পড়ে। দীর্ঘক্ষণ মাথা ঝুঁকিয়ে ফোন দেখার এই প্রবণতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টেক্সট নেক’বলা হয়, যা কালক্রমে মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সারাদিনের কাজের গতি কমে যাওয়া
দিনের শুরুতেই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা আমাদের এক ধরনের সাময়িক আনন্দ দেয়। এর ফলে পরবর্তীতে সাধারণ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। সকালে যে সময়টা পরিকল্পনা করার বা ব্যায়াম করার কথা ছিল, তা ফোনের পেছনে নষ্ট হওয়ায় সারাদিনের কাজের গতি কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। এই সময়টায় দীর্ঘ শ্বাস নিন, একটু পানি পান করুন, হাত-পা টানটান করুন অথবা জানালার বাইরে তাকিয়ে প্রকৃতির আলো গায়ে লাগান। দিনের শুরুটা প্রযুক্তিহীন হলে আপনার শরীর ও মন দুটোই সারাদিন সতেজ থাকবে।



