পর্যাপ্ত ঘুম হওয়ার পরও ক্লান্তি কাটতে চাইছে না। শরীরের ওপর একটানা ধকল গেলে সেই ক্লান্তি দূর করার জন্য দীর্ঘ বিশ্রাম কিংবা বিরতির প্রয়োজন হয়। তা না হলে শরীর কাহিল হয়ে পড়ে। আবার শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমে গেলেও অনেক সময়ে অবসন্ন লাগে। তবে কারণ যেটিই হোক, ক্লান্তি দূর করতে খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিলেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যা শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে নিমেষেই।
কলা
কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬-এর উৎস হলো কলা। শরীরচর্চা কিংবা গরমে সারাদিন কাজকর্ম করে যদি খুব ক্লান্ত লাগে, তাহলে কয়েকটা কলা খেয়ে নিন। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন খনিজে ভরপুর কলা পেট তো ভরাবেই, তরতাজা ভাবও ফিরিয়ে আনবে।
ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চকোলেটে থেরোব্রোমাইন ও ক্যাফিন থাকে। শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দিতে এই দুই উপাদান খুবই কার্যকর। তাই ক্লান্ত লাগলে মুখে ডার্ক চকোলেট পুরে দিলেই হবে মুশকিল আসান।
ইয়োগার্ট
ইয়োগার্ট বা বেশি প্রোটিন-যুক্ত দই এমনিতেই অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এর সঙ্গে যদি মধু ও বেরি মিশিয়ে নেন, তা শরীরের জন্য আরও বেশি উপকারী হয়ে উঠবে। অনেকেই এটি খেতে খুব পছন্দ করেন। ব্রেকফাস্টে অনেকেই ইয়োগার্ট খেয়ে থাকেন। ইয়োগার্টে ন্যাচারাল সুগার থাকলে তা খাওয়া স্বাস্থ্যকর। তবে বিভিন্ন ফ্লেভারের ইয়োগার্টে থাকে অ্যাডেড সুগার। অ্যাডেড সুগার টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও অ্যাডেড সুগার ওজন বৃদ্ধি করে। তাই ব্রেকফাস্টে ফ্লেভার যুক্ত ইয়োগার্ট খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
ছোলা, বাদাম
শরীরে চনমনে ভাব ফিরে পেতে ভিটামিন বি, সি, এবং ই-যুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এই সব ক’টি ভিটামিন রয়েছে অঙ্কুরিত ছোলা, বাদাম, বীজ বা দানাশস্যে। স্প্রাউটের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন এবং প্রোটিন রয়েছে, যা পেশির ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে।
ড্রাই ফ্রুটস
শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এক মুঠো ড্রাই ফ্রুট দারুণ কার্যকরী। খিদে পেলে ভাজাপোড়া না খেয়ে কাঠবাদাম, কিশমিশ, আখরোট, পেস্তা, খেজুরের মতো ড্রাই ফ্রুট খেতে পারেন। ১০০ গ্রাম ড্রাই ফ্রুটে ৩৫৯ ক্যালোরি থাকে। শরীরে আয়রনের চাহিদা মেটাতেও দারুণ উপকারী এই ড্রাই ফ্রুটস।
সূত্র: আনন্দবাজার