হেডফোন, ইয়ারফোন, ইয়ারবাড, এয়ারপড- এসব ডিভাইস নতুন প্রজন্মের নিত্য সঙ্গী। গান, পডকাস্ট শোনা, সিনেমা দেখা, কিংবা কাজের জন্য এই ধরনের ডিভাইস চাই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারফোন গুঁজে বসে থাকলে ক্ষতি আপনারই। এতে শুধু শ্রবণশক্তি হারাবেন বা হিয়ারিং লস হবে এমনটা নয়, শিকার হতে পারেন টিনিটাসের। ‘‘টিনিটাস” শব্দটার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। কিন্তু এই রোগ কানের কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা অনেকেরই অজানা।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক টিনিটাস সম্পর্কে।
টিনিটাস কী
ধরুন চারপাশে শান্ত, নিস্তব্ধ। কোনো আওয়াজ বা শব্দ নেই। অথচ আপনার কানে অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে বা আপনি কোনো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন। সেটা ফোনের রিং, ঝিঁ ঝিঁ-এর ডাকের মতো যেকোনো শব্দ বা আওয়াজ হতে পারে। এমন অবস্থাকেই চিকিৎসার ভাষায় বলে টিনিটাস।
টিনিটাসের কারণগুলো
শ্রবণশক্তি হারালে, মারাত্মক জোরে আওয়াজ হলে টিনিটাস হতে পারে। অনেক সময় কানে সংক্রমণ হলে বা কানে ময়লা জমলেও টিনিটাস হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ বা কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলেও আপনি টিনিটাসে আক্রান্ত হতে পারেন।
হেডফোনে জোরে গান শুনলেও টিনিটাস হতে পারে
টিনিটাসের অন্যতম কারণ উচ্চশব্দ। অতিরিক্ত শব্দে হেডফোন ব্যবহার করলে কানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলো টিনিটাস। এমনকী ইয়ারবাড, যা কানের ক্যানেল বা গলির মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন, সেটা আরও বেশি কানের ক্ষতি করে। শুধু কানের ক্ষতি নয়, উচ্চ ভলিউমে গান শোনার ফলে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ে। এমনকী কগনিটিভ পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
টিনিটাস থেকে সেরে উঠবেন যেভাবে
গোটা বিশ্বে টিনিটাস সারিয়ে তোলার কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এর উপসর্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাউন্ড ট্রিটমেন্ট, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি ও লাইফস্টাইলে পরিবর্তন এনে টিনিটাসের সমস্যা কমানো যায়। লাউড নয়েজ এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ কমানো, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, চা-কফি, মদ্যপান থেকে দূরে থেকে টিনিটাসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
টিনিটাস এড়াতে যা করবেন
প্রথম কাজই হলো হেডফোনের ব্যবহার কমিয়ে ফেলা। লাউড নয়েজ থেকে দূরে থাকা। এছাড়া স্ট্রেস কমানো, ডায়েটে নজর দেওয়া, অত্যধিক নুন-চিনি, চা-কফি খাওয়া কমানো ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
কাজের সময় হেডফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে যা করবেন
টিনিটাস এড়াতে হেডফোনের ধরন ও ব্যবহারের সময়ে পরিবর্তন করতে হবে। অন্যান্য হেডফোন বা ইয়ারফোনের তুলনায় নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ভালো। এই ধরনের ডিভাইস আশেপাশের শব্দকে প্রতিরোধ করে এবং আপনি কম ভলিউমেও গান শুনতে পারেন। এছাড়াও শ্রবণশক্তিকে ভালো রাখতে হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানতে হবে ৬০-এর রুল। ৬০%-এর বেশি ভলিউম বাড়ানো যাবে না। একইসঙ্গে দিনে ৬০ মিনিটের বেশি হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, সারাদিনে ১ ঘণ্টার বেশি কানে কোনো ডিভাইস গুঁজে থাকা চলবে না। এতে শ্রবণশক্তিও হারাবেন না। পাশাপাশি টিনিটাসের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।