ঘুমানোর আগে রিলস দেখার অভ্যাস শরীরের কতটা ক্ষতি করে?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্য্যের অভাবও এখন দারুণ প্রকট। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো ভিডিও দেখার চেয়ে রিলস্ দেখে এন্টারটেইন্ড হতেই লোকের আজকাল আগ্রহ বেশি। দর্শকের সংখ্যা অগণিত, তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস-এর ছড়াছড়িও চোখে পড়ার মতো। আর এই রিলস দেখতে আট থেকে আশি প্রায় সকলেই ভালোবাসে। বর্তমানে এই রিলস্ দেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সারাদিন তো বটেই, লোকে সবচেয়ে বেশি রিলস দেখে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখা এখন অনেকের নিত্যদিনের রুটিন।

যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমোনোর আগে টানা রিলস দেখা শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই নয়, প্রভাব ফেলে শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতে ঘুমোনোর আগে টানা রিলস দেখার ফলে বাড়ছে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি।

হাইপারটেনশনের ঝুঁকি

সম্প্রতি চিনের এক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বয়সের ৪,৩১৮ জনের উপর একটি গবেষণা করা হয়। গবেষকদের মূল লক্ষ্য ছিল, ঘুমাতে যাওয়ার আগে রিলস্ দেখার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। সেই গবেষণাতেই রিলস দেখার সঙ্গে হাইপারটেনশনের ঝুঁকির যোগসূত্র খুঁজে পান তারা। বিশেষ করে তরুণ এবং মধ্যবয়সীদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

মানসিক চাপ

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর রিলস-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকরা। করোনা সংক্রমণের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত রিলস দেখা মনের ওপর চাপ ফেলে। জেন জি এবং জেন আলফার মনোযোগ ধরে রাখতে না-পারার পেছনেও এই রিলসকে দায়ি করেছেন গবেষকরা। পাশাপাশি এর প্রভাবে চিন্তার খোরাক কমে যাওয়া, সৃজনশীল চর্চার পরিধি এবং স্থায়িত্বেরও ব্যাঘাত ঘটে চলেছে ক্রমাগত। রিলস এবং ডুমস্ক্রোলিং-এর বদ অভ্যাসের জেরে ব্রেন রট হওয়া খুব স্বাভাবিক। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে রিলস দেখার পরিণাম আরও ভয়াবহ।

রিলস দেখার ফলাফল

স্মার্টফোন হোক ল্যাপটপ, টেলিভিশন হোক কিংবা ভিডিও গেম- স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকা কারও পক্ষেই ভালো নয়। এসব কাজের সময় শরীর যেটুকু নড়াচড়া করে, রিলস দেখার সময় সে সবের কোনো অবকাশই থাকে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখেন। দীর্ঘক্ষণ একইভাবে থাকার কারণে শরীর আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে রক্ত চলাচলও স্তিমিত হয়ে পড়ে। এবং এর জেরে শরীরে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দানা বাঁধে স্বাভাবিকভাবেই। আবার এই ভাবে দীর্ঘক্ষণ রিলস দেখার সময় শরীরের সিম্পেথেটিক নার্ভাস সিস্টেম আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ভিডিও দেখার সময় হৃৎস্পন্দন তুলনামূলক বেড়ে যায়। টানা একই কাজ করলে এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

প্রতিকার

প্রতিকার হিসেবে গবেষকদের পরামর্শ, যতই রিলস দেখুন না কেন, তাতে আসক্ত হয়ে পড়া চলবে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্ক্রিনটাইম ঠিক করে নিন। প্রয়োজনে স্মার্টফোন দূরে রেখে ঘুমাতে যান। এতে ঘুম যেমন ভালো হবে, শরীরও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে।