মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাতের নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য অনেকেই সারারাত মশানাশক যন্ত্র বা ধূপ জ্বালিয়ে রাখেন। এটি একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে। তবে এটি শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ ও এটা কি শুধু মশাকেই নাশ করছে নাকি পাশাপাশি শরীরেরও ক্ষতি করছে- তা অনেকেরই অজানা।
মশানাশক তেল বা ধূপে কোন ধরনের উপাদান রয়েছে
মশানাশক যন্ত্র বা ধূপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি না, তা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে মশা মারার তেল বা ধূপে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়। এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, “মশা মারার জন্য সাধারণ ভাবে যে বৈদ্যুতিক ভেপরাইজার ব্যবহার করা হয়, তাতে অ্যালেথ্রিন বা প্রালেথ্রিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা তৈরি হয় চন্দ্রমল্লিকা জাতীয় গাছে পাওয়া প্রাকৃতিক কীটনাশক পদার্থ থেকে। ওই রাসায়নিক মশা দূরে রাখতে সাহায্য করে ঠিকই, তবে দীর্ঘ ব্যবহারে মানবদেহের ক্ষতি করতে পারে।”
তার মতে, ‘‘মশানাশক তেল বা ধূপে ব্যবহৃত রাসায়নিকের ধোঁয়া যদি দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রবেশ করে, তবে তা থেকে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের এবং শ্বাসের সমস্যা থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের এই সমস্যা হতে পারে বেশি।’’
সারা রাত মশার ধূপ বা মশানাশক যন্ত্র জ্বালিয়ে রাখলে কী হতে পারে
চিকিৎসকরা বলছেন, যদি ঘরে ঠিকমতো হাওয়া চলাচল না করে, তবে মশানাশক তেল বা ধূপের ধোঁয়া থেকে মাথা ধরা, চোখ জ্বালা, গলায় অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের যদি অ্যাস্থমার সমস্যা থাকে বা প্রাপ্তবয়স্কদের যদি অন্য কোনও অসুখ থাকে তবে সারা রাত মশানাশক তেল জ্বালিয়ে রাখলে তাদের অস্বস্তি বেশি হবে। শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা যেমন হতে পারে, তেমনই নানা ধরনের অ্যালার্জিও হতে পারে। মশানাশক ধূপের ধোঁয়া থেকে ঘরের বায়ুদূষণ হয়। যে পরিবেশে শ্বাস নেওয়া কয়েকশো সিগারেট খাওয়ারই সমান।
তবে যা করবেন
সারারাত যদি মশানাশক তেল বা ধূপ জ্বালাতেই হয়, তবে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক হতে বলছেন চিকিৎসকেরা।
১. বিছানা থেকে বা যেখানে ঘুমাচ্ছেন, সেখান থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরত্বে রাখুন।
২. ঘরের অন্তত একটি জানালা খুলে রাখুন। তাতে ঘরে হাওয়া এবং অক্সিজেন চলাচলের মাত্রা ঠিক থাকবে।
৩. যদি সম্ভব হয়, তবে কয়েক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার পরে নিভিয়ে দিন। দরকার হলে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে জ্বালিয়ে রাখুন। বিছানায় যাওয়ার আগে নিভিয়ে দিন।