ভ্রমণপিপাসুরা প্রতিনিয়তই নতুন কিছুর খোঁজে ঘুরতে থাকেন। তবে দেশে বা বিদেশে ঘুরতে গিয়ে নতুন জায়গায় নানা সমস্যা আসতে পারে। সম্প্রতি ভারতের কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে আগাম কিছু সতর্কতা এবং পরামর্শ মাথায় রাখলে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কোথাও ঘুরতে গেলে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।
১. আতঙ্কিত হবেন না
বিপদ কখনও আগাম জানান দিয়ে আসে না। তাই ঘুরতে গিয়ে পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে মাথা ঠান্ডা রাখা উচিত। অযথা আতঙ্কিত হবেন না। দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে শান্ত মনে পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে নেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেও সমস্যার সমাধান হতে পারে।
২. মনের কথা শুনুন
যদি কোনো বিপদের আগাম আঁচ পেয়ে যান তাহলে নিজের মন এবং বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করুন। তার ফলে বিপদ উপস্থিত হলেও আপনি সহজেই তার মোকাবিলা করতে পারবেন।
৩. টাকা এবং নথি
নতুন জায়গায় যে কোনো রকম বিপদ হতে পারে। তাই টাকা-পয়সা একটি নির্দিষ্ট ব্যাগে রাখা উচিত নয়। এর পরিবর্তে বিভিন্ন জায়গায় অল্প অল্প করে টাকা-পয়সা ভাগ করে রাখা উচিত। প্রয়োজনীয় সরকারি পরিচয়পত্র (যেমন: পোসপোর্ট) এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্রের (যেমন হোটেল বা গাড়ির বুকিংয়ের কাগজ) একাধিক প্রিন্টআউট করে নিজের সঙ্গে রাখা উচিত।
৪. আপনি সিনেমার নায়ক নন!
নতুন জায়গায় বিপদে পড়লে অনেক সময়েই নিজেকে সকলের মাঝে প্রমাণ করার তাগিদ থাকতে পারে। কিন্তু নিজে সাঁতার না জেনে অন্যকে পানি থেকে বাঁচাতে যাওয়া অর্থহীন। ঘুরতে গিয়ে অপরিচিত ব্যক্তি বা কোনো দুষ্কৃতীর সঙ্গে ঝামেলায় না জড়ানোই ভালো। অতি উৎসাহী হয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভালো।
৫. গোপনীয়তা বজায় রাখা
ঘুরতে গিয়ে অযথা গয়না বা সঙ্গের দামি জিনিস প্রকাশ্যে আনার দরকার নেই। সব সময়ই ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত।
৬. ভিড়ের মাঝেই সুরক্ষা
সমস্যায় পড়লে ঘটনাস্থলে বাকি পর্যটকেদের সঙ্গেই মিশে থাকা উচিত। তারা কী করছেন, আলোচনা করে একসঙ্গে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কোনো বিপদ উপস্থিত হলে ভিড় ছেড়ে একা অন্য কোনো পথে পা না বাড়ানোই ভালো। একসঙ্গে থাকলে সমস্যার মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
৭. স্থানীয় হেল্পলাইন নম্বর
কেনো গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে সেখানকার সরকারি হেল্পলাইন নম্বর জেনে রাখা ভালো। তাহলে সমস্যায় পড়লে সহজেই সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। মোবাইল ফোনের চার্জ যে কোনো সময় শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর এবং হোটেলের নাম ঠিকানা কোনো ছোট নোটবুকে লিখে রাখলে সুবিধা হবে।
৮. বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন
ঘুরতে গিয়ে ‘‘প্ল্যান বি’’ ভাবা থাকলে সুবিধা হয়। সে ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পরলে নিকটবর্তী হাসপাতাল, অন্য কোনো হোটেল, সরকারি তথ্যকেন্দ্রের ফোন নম্বর এবং ঠিকানা জেনে রাখুন।
৯. ভাষা জানার সুবিধা
দেশ হোক বা বিদেশ, গন্তব্যস্থলের স্থানীয় ভাষার কিছু প্রয়োজনীয় শব্দ জানা থাকলে ভালো। এতে কোনো সময় বিপদে পরলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
১০. তর্ক থেকে দূরে থাকা
কোথাও ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা বসবাসকারীদের সঙ্গে কোনো রকম তর্কে না জড়ানোই ভালো। হতেই পারে তারা আপনার সমস্যা বুঝতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে মাথা ঠান্ডা করে তাদের আপনার সমস্যা বোঝানো উচিত। অন্যথায় আপনি নিজে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন।