গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার আগমন মানেই আবহাওয়ায় এক বিশেষ পরিবর্তন। কখনও মুষলধারে বৃষ্টি, কখনও আবার ঝিরিঝিরি। গাছের জন্য বৃষ্টির পানি যেমন উপকারী, তেমনি অতিরিক্ত পানি জমলে তা বিপদের কারণও হতে পারে। দীর্ঘ সময় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ মারাও যেতে পারে।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বর্ষাকালে ছাদ বাগানের যত্ন নেবেন যেভাবে।
১. গাছের টবগুলো ছাদের প্রাচীর থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে রাখা। প্রতি টবের মাঝেও নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে বৃষ্টির পানি জমতে পারবে না, সহজেই বেরিয়ে যাবে। ছাদে পানি জমলে বাড়িরও ক্ষতি হতে পারে। তাই এ বিষয়টিও নজরে রাখা দরকার। অনেক সময় গাছের পাতা ঝরে বা বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে ছাদের পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ছাদ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
২. গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ মরে যেতে পারে। ভারি বর্ষণের পরে টবে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি সরিয়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে খেয়াল রাখা প্রয়োজন টবের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও। টবের নিচে থাকা ছিদ্রগুলো মাটিতে বন্ধ হয়ে গেলে, তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। মাঝেমধ্যে টবের মাটি আলগা করে দেওয়াও প্রয়োজন।
৩. বর্ষাকালে সাধারণত গাছের সারের প্রয়োজন হয় না। সার দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় হলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস। তবে ঘরে থাকা গাছে পরিমাণমতো সার দিতেই পারেন। গাছে পানিও দিতে হবে প্রয়োজন বুঝে।
৪. বর্ষায় দীর্ঘ সময় মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকায় অনেক গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় বা কুঁক়ড়ে যায়। টবের মাটিতে পানি জমে এমনটা হয়। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। যে গাছে এই উপসর্গগুলো দেখা দিচ্ছে, সেই গাছের মাটি নতুন করে তৈরি করতে পারেন। মাটিতে হালকা বালি মেশানো থাকলে সাধারণত পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়।
৫. বর্ষার স্যাঁতসেতে আবহাওয়ায় ছত্রাক, পোকার আক্রমণও বেশি হয়। একটি গাছে পোকা হলে দ্রুত তা অন্য গাছেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো গাছে এমন সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই তা বাকি গাছগুলো থেকে আলাদা করে নিতে হবে। তারপর পানির সঙ্গে নিমতেল মিশিয়ে স্প্রে করুন। সুস্থ গাছেও মাঝেমধ্যে এটি স্প্রে করলে পোকা বা ছত্রাকের আক্রমণ এড়ানো যেতে পারে।