থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে (৩৯) স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়। সাংবিধানিক আদালত ৬-৩ ভোটে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়, কাম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে গত জুন মাসের ফোনালাপে পেতংতার্ন জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেই অভিযোগেই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরানো হলো।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেতংতার্ন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল দেশের মঙ্গল, ব্যক্তিগত লাভ নয়। আমি দেশের নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্য উভয়কেই বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আজকের রায় থাই রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তন এনেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকার, বিরোধী দল ও জনগণ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বরখাস্ত হওয়ায় তিনি হলেন ক্ষমতাধর সিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতা হারালেন। দুই দশক ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এই পরিবার ব্যাপক প্রভাবশালী।
২০০৮ সালের পর থেকে এ নিয়ে পাঁচজন থাই প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন।
এর আগে, পেতংতার্নের ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শোনা যায়, পেতংতার্ন হুন সেনকে “চাচা” সম্বোধন করে তোষণমূলক মন্তব্য করেন এবং এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে “প্রতিপক্ষ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি দেশীয় চাপের মুখে রয়েছেন এবং হুন সেনকে বিরোধী পক্ষের কথা না শোনার অনুরোধ করেন। এই কথোপকথনে তিনি বলেন, “আপনার যদি কিছু চাওয়া থাকে, আমাকে বললেই হবে, আমি দেখবো।”
গত ১ জুলাই মামলার শুনানি চলাকালে আদালত তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল। পরবর্তী সময়ে সীমান্ত বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়, যেখানে ৫০ জনের মতো মানুষ নিহত হয় এবং দুই দেশের হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। অবশেষে ২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হয়।
প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের সময়ের এই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে।