Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফোনালাপ ফাঁসের জেরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

দেশটির সাংবিধানিক আদালত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম

ফোনালাপ ফাঁসের জেরে সাময়িক বরখাস্ত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। দেশটির সাংবিধানিক আদালত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগের চাপের মধ্যে রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) সাংবিধানিক আদালতে ভোট হয়। আদালত ৭-২ ভোটে প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুংরুয়াংকিত দেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে পেতংতার্ন কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে “চাচা” বলে সম্বোধন করেন এবং থাইল্যান্ডের এক সামরিক কর্মকর্তার সমালোচনা করেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাকে বরখাস্তের জন্য একটি আবেদনও করা হয়। আবেদনটি সাংবিধানিক আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।

গত মে মাসে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিতর্কিত এক সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের সেনা সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের ফোনালাপ ফাঁস হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন দুঃখ প্রকাশ করেন।

চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হলে দেশটির প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতা হারাচ্ছেন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। এই পরিবার দেশটির রাজনীতিতে খুবই প্রভাবশালী। গত দুই দশক ধরে তারা দেশটির রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক।

এদিকে, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর জোট ইতোমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিপাকে পড়েছে, কারণ তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দুই সপ্তাহ আগে জোট ত্যাগ করেছে।

এর আগে, সাংবিধানিক আদালতে প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন পদচ্যুত হলে ২০২৪ সালের আগস্টে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট। থাইল্যান্ডে তিনিই হচ্ছেন সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। তখন তার বয়স ছিল ৩৭ বছর।

পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফিউ থাই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট মেয়ে। তিনি ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। উং ইং ডাকনামেও পরিচিত পেতংতার্ন। তার রাজনীতিতে পদার্পন করেন ২০২১ সালে। তখন ফিউ থাই পার্টির ইনক্লুশন অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রধান হন তিনি।

২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে দ্বিতীয় সন্তানের মা হন পেতংতার্ন। নির্বাচনে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় প্রার্থী। পেতংতার্ন থাকসিন পরিবার থেকে সরকারের শীর্ষ পদে আসা তৃতীয় ব্যক্তি। বাবা থাকসিনের পাশাপাশি পেতংতার্নের ফুপু ইংলাক সিনাওয়াত্রাও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

   

About

Popular Links

x