সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নারের জীবনাবসান

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া মুঘল হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন। 

টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (৬ মে) পরিবারের সান্নিধ্যে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ ৮৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। 

সিএনএন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনিই প্রথম আধুনিক ২৪ ঘণ্টার সংবাদ পরিবেশন সংস্কৃতির পথ দেখান। ১৯৯১ সালে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব’ নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেওয়া টেড টার্নার ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। টার্নার এমন এক গণমাধ্যম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিশ্বের প্রথম ক্যাবল প্রথম সুপারস্টেশন, চলচ্চিত্র ও কার্টুনের জনপ্রিয় চ্যানেল এবং পেশাদার ক্রীড়া দল। 

সিএনএনের সিইও ও চেয়ারম্যান মার্ক থম্পসন এক শোক বিবৃতিতে বলেন, “টেড টার্নার ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। তিনি ছিলেন নির্ভীক, অকুতোভয়। ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকতেন তিনি।” 

বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রতিষ্ঠার শুরুতে সিএনএন বেশ লড়াই করলেও ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে হত্যার চেষ্টা এবং ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল বিপর্যয়ের মত ঘটনাগুলো টেড টার্নারের নেতৃত্বে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের প্রমাণ করে। 

৯০ দশকে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সঠিক ও তথ্যসমৃদ্ধ খবর প্রচারের মাধ্যমে সিএনএন প্রকৃত অর্থে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। 

টার্নারের ব্যবসায়িক জগৎ কেবল সিএনএন এ সীমাবদ্ধ ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক ‘বিলবোর্ড’ কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি জর্জিয়ার আটলান্টায় একটি রেডিও স্টেশন কিনে নেন। 

এভাবেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মিডিয়া মুঘলে পরিণত হন।