আটলান্টিক মহাসাগরে পর্যটকবাহী এক বিলাসবহুল জাহাজে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকির উদ্বেগ তৈরি করেছে। ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি প্রমোদতরীতে এই ভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আক্রান্ত আরও চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ( ০৮ মে) বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে গত ১ এপ্রিল ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনসের এই জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল। দুর্গম ও অদেখা কিছু ভূখণ্ড দেখার প্রতিশ্রুতিতে এতে চড়েছিলেন ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু। কিন্তু ভ্রমণের মাঝপথেই হানা দেয় প্রাণঘাতী ভাইরাস। ১১ এপ্রিল প্রথম একজন ডাচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। এরপর ২৪ এপ্রিল জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার স্ত্রী মারা যান, যার শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত করে ডব্লিউএইচও। সর্বশেষ ২ মে একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা তিনে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের অনেকেই ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিমানে ফিরে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্তদের শরীরে ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ পাওয়া গেছে, যা মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। জাহাজটির অপারেটর জানিয়েছে, সাতজন ব্রিটিশ নাগরিকসহ ইতোমধ্যে নেমে যাওয়া ৩০ জন যাত্রীর সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছে।
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে ছড়ায়। শুকনো মল থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। সিডিসি’র মতে, এই ভাইরাস প্রধানত দুটি রোগ সৃষ্টি করে:
এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম): এতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
এইচএফআরএস (রেনাল সিনড্রোম): এটি কিডনি বিকল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, যার বড় অংশই ঘটে চীনসহ এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ জনগণের জন্য এই মুহূর্তে ঝুঁকি কম থাকলেও যারা সম্প্রতি আক্রান্ত জাহাজে ছিলেন বা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। নেদারল্যান্ডস থেকে দুইজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জাহাজটিতে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।