শেষ হতে চলেছে ইউক্রেন যুদ্ধ, পুতিনের মন্তব্যে চাঞ্চল্য

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে, এমনই এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

শনিবার (০৯ মে) মস্কোর রেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজ এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যে এই আশাবাদ ফুটে ওঠে। যদিও এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়ার জয় অনিবার্য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানিকে হারানোর স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে ‘বিজয় দিবস’ পালন করে রাশিয়া। এবারের আয়োজনে পুতিন বলেন, “জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে এবং আমাদেরই হবে।” 

তবে দিনশেষে ক্রেমলিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টি (যুদ্ধ) শেষের দিকে এগোচ্ছে।” কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় এই সমাপ্তি ঘটবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও পুতিনের এই মন্তব্যকে যুদ্ধের মোড় পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবারও ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ইউক্রেনকে পশ্চিমা প্রভাব বলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুতিনের মতে, এটিই বর্তমান সংঘাতের মূল কারণ। তিনি নতুন ইউরোপীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পছন্দ করছেন বলে জানান।

কুচকাওয়াজ ছিল চোখে পড়ার মতো সীমিত। সশরীরে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র বা ট্যাংক প্রদর্শনের পরিবর্তে এবার ক্রেমলিনের বড় পর্দায় সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ৯ মে থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, যা ১১ মে শেষ হওয়ার কথা। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া স্থায়ী শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর পুতিনের এই সংঘাতকে ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পুতিনের এই ‘সমাপ্তি’র ইঙ্গিত কি স্থায়ী শান্তির পথে কোনো পদক্ষেপ নাকি নতুন কোনো রণকৌশলের অংশ।