আবারও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি চালু করছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছে ইরান। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে টানেলের প্রবেশপথ খুলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করছে ইরান। এরইমধ্যে দেশটির খুজিস্তান প্রদেশের ডেজফুর এলাকার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রমাণও পেয়েছে তারা।

এরমধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সীমাবদ্ধতাই ফুটে উঠেছে, এমন শিরোনাম করতে দেখা যায় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনটিতে। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর রাস্তা ও টানেলের মুখ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যাতে ইরান এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর ইরান দ্রুত এসব ঘাঁটিগুলো উদ্ধার ও মেরামতসংক্রান্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।

সিএনএন’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এরইমধ্যে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি টানেলের মধ্যে ৫০টির প্রবেশপথই পুনরায় খুলে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অনেক রাস্তা মেরামত করা হয়েছে এবং কিছু স্থানে নতুন করে পিচ ঢালা হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টানেলের প্রবেশপথ ধ্বংস করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করা সম্ভব নয়। কারণ, ভূগর্ভে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও অন্যান্য সরঞ্জাম অক্ষত থাকলে প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের পর সেগুলো আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা সাম লেইর বলেন, “ইরানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। নতুন উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত লঞ্চার থাকলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পারবে।”