ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
দাবি করা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির সময় তাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে আলাদা আলাদা আয়াত তেলাওয়াত করা হয়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তুরস্কের প্রতিনিধি দলের সামনে করা তেলাওয়াতটি। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়। এই আয়াতে আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী (জিহাদকারী) এবং কোনো বৈধ কারণ ছাড়া ঘরে বসে থাকা ব্যক্তিদের মর্যাদাগত পার্থক্যের বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তুরস্ককে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট এই আয়াতটি নির্বাচন করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে আঙ্কারার প্রতি তেহরানের একটি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য এভাবে পৃথক আয়াত নির্বাচন করা মূলত একটি প্রতীকী কূটনৈতিক বার্তা। তবে এই দাবিটি কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি ইরান-তুরস্ক সম্পর্কসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।