ভারতে বর্ষাকাল প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় সময়। সবুজ পাহাড়, উচ্ছ্বসিত ঝরনা আর কুয়াশায় মোড়া উপত্যকা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, সড়ক ধস ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার ভারতের মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়েছে। স্কুল-কলেজও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ।
এ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগও এসব এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যেসব পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে, সেগুলো হলো -
লোনাভালা ও খান্ডালা, মহারাষ্ট্র
টানা বৃষ্টিতে পশ্চিমঘাট অঞ্চলে একাধিক ভূমিধস হয়েছে। কারজাত-লোনাভালা সড়ক এবং মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কে পাথর ও কাদামাটি জমে পড়ায় ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মুম্বাই, থানে ও রায়গড় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
গঙ্গোত্রী, উত্তরাখণ্ড
চারধাম যাত্রার অন্যতম তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী যাওয়ার মহাসড়কে একাধিক ভূমিধস হয়েছে। পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গঙ্গোত্রী সফর স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তির্থান ভ্যালি ও চাম্বা, হিমাচল প্রদেশ
প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে লারজি-সাইনজ সড়ক এবং চাম্বা-তিসা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর ও কাদামাটি ধসে পড়ায় পাহাড়ি এসব এলাকায় ট্রেকিং বা বেড়াতে যাওয়া আপাতত নিরাপদ নয়।
দোদা ও কিস্তোয়ার, জম্মু ও কাশ্মীর
টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দোদা ও কিস্তোয়ার জেলার সংযোগকারী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
ধেমাজি ও আসাম-অরুণাচল প্রদেশের বন্যাকবলিত এলাকা
আসামের ধেমাজি জেলায় বন্যা ও নদীভাঙনে রেল অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখাই নিরাপদ।
ওয়েনাড়, কেরালা
কেরালার জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ওয়েনাড়েও নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মীনাক্ষী ও চুরালমালা এলাকার কাছে ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা সচল থাকলেও ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।