Sunday, July 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মুম্বাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) মুম্বাই ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। নগর কর্তৃপক্ষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মুম্বাই ও আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। এ কারণেই শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি) নগরবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তার জন্য বিএমসির ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০০ মিলিমিটার ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ভিখরোলি পশ্চিমের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিস এলাকায়। এছাড়া কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ছাড়া মালাবার হিল, কোলাবা, মান্ডাভি ফায়ার স্টেশন, ভিখরোলি ফায়ার স্টেশন, পাওয়াই, ভান্ডুপ, আন্দেরি, চাকালা, জোগেশ্বরী ও গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ আরও কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার সকাল পর্যন্ত মেট্রো ও বিএসটি বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শহরতলির ট্রেন চলাচলে বিলম্বের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। এর আগে শনিবার মাত্র ১২ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও ভূমিধস, কোথাও গাছ উপড়ে পড়া এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

শুধু মুম্বাই নয়, টানা বৃষ্টিতে থানে, পালঘর, নবি মুম্বাই ও পুনেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নিচু এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএমসি। কারণ রোববার বিকেলে ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার এবং সোমবার ভোরে আরও ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে।

   

About

Popular Links

x