ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ১৩ বিশ্বনেতা, প্রতিশোধের ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রতিশোধ নিতে বিশ্ব নেতাদের এক বিস্ফোরক ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (হিট লিস্ট) প্রকাশ করেছে দেশটির এক প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীদের ছবি ও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তেহরান প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং কট্টরপন্থী সুরের জন্য পরিচিত ‘হামশাহরি’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে এই লক্ষ্যবস্তুদের তালিকাটির বিশেষ একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক আগেই ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার তীব্র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানান, “প্রতিশোধ আমাদের গোটা জাতির একচ্ছত্র ইচ্ছা এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত করা হবে। তালিকায় নাম থাকা এই অপরাধীরা বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করার ইচ্ছা অপূরণীয় রেখেই বুকভরা চরম আতঙ্ক নিয়ে কবরে যাবে।”

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিনাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর বার্তা দেওয়ার পরপরই হামশাহরির পাতায় ১৩ জন প্রভাবশালী বিশ্ব নেতার ছবির তালিকাটি জনসমক্ষে আসে।

প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছবি রয়েছে। এছাড়া তালিকায় রাখা হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে। ইউরোপীয় বিশ্বনেতাদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস-এর ছবি সেখানে স্থান পেয়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, ১৩ জন নেতার এই বিতর্কিত তালিকার বিষয়টি অনলাইনে প্রকাশিত হলেও পত্রিকার মূল প্রিন্ট সংস্করণে এটি এড়ানো হয়েছে।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়ে ওয়াশিংটনকে সামরিক সুবিধা দিয়েছে। ফলে ইউরোপের এই দেশগুলো সরাসরি মার্কিন আগ্রাসনের অংশীদার ও অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়েছে।

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার এই খোলাখুলি হুমকি এবং তার পরপরই প্রকাশিত হিট লিস্টের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।