পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের বহুল আলোচিত ‘নিট’ কেলেঙ্কারিতে জড়িত অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে একটি নিখুঁত, নির্ভরযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশবাসীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-র সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে ঐক্যের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এনডিএ সহযোগীদের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ ও যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করার যৌথ দায়িত্ব সব সংসদ সদস্যের।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট পরীক্ষাসহ শিক্ষা খাতের যাবতীয় অনিয়মের বিচারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিশাল সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জে পণ্ড হয়ে যাওয়ার পরদিন প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এলো। বর্তমানে যন্তর মন্তরে নতুন করে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। বেকার যুবকদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের জের ধরে গঠিত এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলটি শিক্ষা খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন বড় ভিত্তি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ ওঠায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী নিট পরীক্ষা বাতিল করে পরবর্তীতে পুনরায় নেওয়া হয়। এছাড়া সিবিএসই পরীক্ষার অনলাইন নম্বর প্রদান প্রক্রিয়াতেও নানা ত্রুটি দেখা যায়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, নিট কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পরপরই সরকার দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কালবিলম্ব না করে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন সম্পন্ন করেছে।
এদিকে সিজিপির আন্দোলনের সমর্থনে টানা ২১ দিন অনশন করা প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক সফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি হাসপাতাল থেকেই পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে পুনরায় অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই সিজিপির দুই নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিনামা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে জেপি নাড্ডাও স্বীকার করেন যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে নিট কেলেঙ্কারি, শিক্ষা খাতের অনিশ্চয়তা এবং রাম মন্দিরের অনুদান চুরির মতো একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাল হয়ে ওঠে ভারতের পার্লামেন্ট। বিরোধী দলগুলোর তুমুল হট্টগোল ও প্রতিবাদের মুখে লোকসভা ও রাজ্যসভা, উভয় কক্ষের অধিবেশনই চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।