ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বাড়ি থেকে পাঁচ নবজাতকের হাড় উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। কাগজের একটি বাক্সের ভেতর পাওয়া যায় এসব দেহাবশেষ। ঘটনাটি নিয়ে হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
দেশটির অরেঞ্জ শহরের স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জানায়, গত রবিবার শহরের একটি বাড়িতে ৩২ বছর বয়সী এক নারী সন্তান জন্ম দেন, এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার সঙ্গী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বাড়িতে তিনি সন্দেহজনক কিছু লক্ষ করেছেন।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, সঙ্গীর গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি অনেক দেরিতে জানতে পারেন, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এরপর বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তিনি মানুষের দেহাবশেষের মতো কিছু দেখতে পান।
প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বর্ণনা পাওয়ার পর সোমবার রাতে পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালায়। একজন ফরেনসিক চিকিৎসকের ধারণা, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ সম্ভবত পাঁচটি নবজাতকের।
তদন্তকারীরা এখনও ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। তার পরিবারে ৮ ও ৯ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে। প্রতিবেশী ফ্লোর জ্যঁ এএফপিকে জানান, শিশু দুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ত এবং প্রতিদিন দুপুরে তাদের মা স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। ওই নারীর সঙ্গী কাজের জন্য সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন।
মঙ্গলবার দুইতলা বাড়িটির সিঁড়ির কাছে একাধিক সাইকেল দেখা যায়, আর পুলিশ সদস্যরা লাল টেপ দিয়ে বাড়ির দরজা সিল করে দেন।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে এর আগেও বাড়ি থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চে একটি বাড়ির ফ্রিজ থেকে দুই নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছিল পুলিশ, যে ঘটনায় আদালত ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।