নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতাল ও শবাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মরদেহ জমে গেছে। সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় প্রশাসন এখন অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্তবর্তী ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যার পর ভাটি অঞ্চল থেকে শত শত মরদেহ কাঠমান্ডুতে আনা হচ্ছে। রাজধানীতে জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ-অবকাঠামো বাড়ানো হলেও মরদেহ চাপ সামলানো যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত আসার আগেই চিতওয়ান জেলার স্থানীয় প্রশাসন জায়গার অভাবে ৭০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত তিব্বত সীমান্তে একটি বড় হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা থেকে। এর ফলে ভোতে কোশী নদী উত্তাল হয়ে ওঠে এবং প্রবল বেগে ত্রিশূলী নদীতে আছড়ে পড়ে বিস্তীর্ণ জনপদ ভাসিয়ে দেয়। এতে রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, রবিবার পর্যন্ত অন্তত ৭৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।
কাঠমান্ডুর সবচেয়ে বড় সরকারি মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শবাগারে ধারণক্ষমতার চার গুণের বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে, নতুন কোনো মরদেহ রাখার জায়গা নেই। কর্মকর্তারা জানান, গণকবরের কাজ শুরু হলেও প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য করা যায়।
উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এ পর্যন্ত অন্তত ৪০০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।



