Saturday, August 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভয়াবহ বন্যায় তছনছ দেশ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানালো নেপাল

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হিসাব নয়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

চলতি সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন (৪০০ থেকে ৫০০ কোটি) মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ নেপালের মোট অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির (জিডিপি) প্রায় এক-দশমাংশের সমপরিমাণ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, "প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হিসাব নয়, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে যে বিপুল ব্যয় হয়েছিল, এবার তার চেয়ে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন পড়তে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭.৮ মাত্রার ভূকম্পনে প্রায় ৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং দেশটির মোট অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয় অঞ্চলে একটি বিশালাকার হিমবাহ ধসে পাথর, বরফ ও কাদার স্রোত নদীর পানির সঙ্গে নেমে এলে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে এক প্রলয়ঙ্করি বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী ৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।

এই প্লাবনে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একাধিক শহর ও জনপদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির তীব্র তোড়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও প্রধান সড়ক পুরোপুরি ভেসে গেছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয়, পর্যটন এবং জলবিদ্যুৎ খাতের ওপর নির্ভরশীল নেপালের অর্থনীতিতে এই বন্যা এক মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো থেকে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশের বেশি সরবরাহ আসত।

   

About

Popular Links

x