নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২,৯৮০ জন হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩,৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, “জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।”
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।



