এবার চরম সংকটে ৫ হাজার মার্কিন সেনা, দ্রুত দেশে ফেরার আকুতি

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত যুদ্ধাভিযান শেষে কবে নাগাদ দেশে ফেরা যাবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় চরম হতাশা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ক্রু সদস্যদের মধ্যে। সমুদ্রে টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় পার করায় সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদের পরিবার।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এনবিসির একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক টাউন হল সভায় নাবিক ও সেনাদের স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সভায় উপস্থিত প্রায় ২০০ স্বজনের মধ্যে এক নাবিকের স্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, সভার দিনই তার স্বামী তাকে এক বার্তায় লিখেছেন যে, ‘তিনি আশা করেন আগামীকাল যেন তার আর ঘুম না ভাঙে।’

নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিবারের এই আবেগঘন উদ্বেগের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে না পারলেও যুদ্ধজাহাজটিতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যাপলিন এবং অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ৪০ দিনের যুদ্ধাভিযানসহ টানা আট মাসেরও বেশি সময় সমুদ্রেই পার করেছেন ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনা। গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে রওনা দিয়ে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হওয়া এই বিমানবাহী রণতরিটিতে কোনো ধরনের স্বাভাবিক বন্দরবিরতি (পোর্ট কল) দেওয়া হয়নি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মে মাসে মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সুনির্দিষ্ট ফেরার তারিখ ছাড়াই মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কাছে নাবিকদের স্বজনেরা জানান, টানা কাজের ধকল, চরম একঘেয়েমি এবং দেশে ফেরার অনিশ্চয়তায় সেনাসদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে ও সহকর্মীরা একটু স্বস্তি পেতে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভাবছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরীরা এক সেনাকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে নিরস্ত করেন।

দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে সেনাসদস্যদের তীব্র খাদ্য ও পানিসংকট, যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতা এবং এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাপড় কাচার সুযোগ না পাওয়ার মতো পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বৈরী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রসদ সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠে স্বাস্থ্যের যত্ন, খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।