বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রপ্রধান, ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া গত জুন মাসে এক ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন। ৯৩ বছর বয়সী এই শাসকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে ক্যামেরুনজুড়ে বর্তমানে তীব্র জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন তিনি ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। সরকারিভাবে বিষয়টিকে স্বল্পমেয়াদি সফর বলা হলেও গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই তার দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন অনুপস্থিতি। জল্পনার মুখে ক্যামেরুন সরকারের মুখপাত্র রেনে ইমানুয়েল সাদি সম্প্রতি ফরাসি রেডিও আরএফআই-কে জানিয়েছেন যে, পল বিয়া বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থান করছেন। তিনি কোনো হাসপাতালে ভর্তি নন এবং পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন বলে দাবি করা হলেও তার অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য বা দেশে ফেরার সময়সূচি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
ক্যামেরুনের রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষ ক্ষমতায় থাকা পল বিয়াকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থান করা তার পুরনো অভ্যাস হলেও, বর্তমান বয়সে তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি স্বাস্থ্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অতীতেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব উঠলে সরকার তা নাকচ করে দেয়; এমনকি ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা বা প্রতিবেদন প্রকাশকে 'জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়' ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ক্যামেরুন স্বাধীনতা লাভের পর থেকে পল বিয়া দেশটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর ক্ষমতা গ্রহণ করা এই নেতা ১৯৮৪ সালে প্রথম নির্বাচনে জয়ী হন। সম্প্রতি এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি অষ্টম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন, যা তাকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।
আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ জনগোষ্ঠীর বসবাস সত্ত্বেও চার দশক ধরে ৯৩ বছর বয়সী পল বিয়ার এই নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা ধরে রাখা এক অদ্ভুত রাজনৈতিক বৈপরীত্য হিসেবে তুলে ধরছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ক্যামেরুনের একাধিক প্রজন্মের কাছে তিনিই একমাত্র পরিচিত রাষ্ট্রপ্রধান। চার দশকের এই অপরিবর্তনীয় শাসনের পর বিয়ার বর্তমান দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।