মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিতে নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলার পর অভিযুক্ত হামলাকারীও মারা গেছে।
দেশটিতে দুই মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। পশ্চিম মিনদানোতে ক্যাথলিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আঞ্চলিক পুলিশ জানায়, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল ক্যাম্পাসে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে আসে। এরপর একটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যা করে। পরে সে নিজেও মারা যায়।
পুলিশের মুখপাত্র শেলা চ্যাং বলেন, “তদন্ত চলছে। আমরা এখনো হামলার কারণ শনাক্তের চেষ্টা করছি।”
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তবে কতজন আহত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভবত ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দুকের নল করিডোর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরে সেটি একটি শ্রেণিকক্ষের দিকে তাক করা হয় এবং গুলি চালানো হয়।
এরপর স্কুলের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের চিৎকার করে বের হওয়ার পথে ছুটতে দেখা যায়।
অভিযুক্ত হামলাকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাম্বোয়াঙ্গা সিটির মেয়র খাইমার ওলাসো স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনকে বলেন, “ভিডিওতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সে প্রথমে একটি টেবিলে বসা শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।”
তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে, সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর অন্য একটি কক্ষে যায়। সেখানে সে আরেক শিক্ষার্থীকে গুলি করে।”
ওলাসো প্রথমে হামলাকারীকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষও দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমন্বয় করেছি। ক্যাম্পাসে থাকা অন্যদের নিরাপত্তাও বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে।
ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল। তবে জুনে দেশটির মধ্যাঞ্চলে তিন কিশোর শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়।
আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা গত মাসে দেশটির অনেক স্কুলের সঙ্গে সক্রিয় হামলাকারী মোকাবিলার মহড়ায় অংশ নেয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাকারবারিদের বাজারও রয়েছে।