কলকাতার হোটেলে আগুনের ঘটনায় ইজারাদার গ্রেপ্তার

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদসংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে আবু জাফরের নাম রয়েছে। তাকে কলকাতার এনটালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। পরে ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলটিতে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানায়।

দীর্ঘ সময়ের উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। তাদের মধ্যে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু এবং ছয়জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার, একজন ঢাকার সাভারের এবং দুজন সাতক্ষীরার বাসিন্দা।

কুষ্টিয়ার নিহতরা হলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে তারা ভারতে গিয়েছিলেন।

ঢাকার সাভারের নিহত আহমেদ বাবুর (৩৭) পাশাপাশি সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকারও এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অপর দুই নিহত ভারতীয় নাগরিকের একজন ঝাড়খণ্ডের হোটেলকর্মী সন্দীপ পাশওয়ান এবং অন্যজন পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগনারায়ণ আগরওয়াল (৬৮)।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, কলকাতার হোটেলগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, ওই ভবনের তিনটি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল এবং কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ, হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না - এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্ত দল।