মার্কিন সামরিক অভিযানে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার আট মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি সাবেক ভেনিজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদুরোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তার কারাবন্দি অবস্থার এই ছবিগুলো পোস্ট করা হয়। ছবিগুলোতে তাকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার’-এ দেখতে পাওয়া যায়।
প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর রঙের সোয়েটস্যুট ও সাদা স্নিকার্স পরে একটি সাধারণ দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ আট মাস বন্দি থাকার পর তাকে আগের চেয়ে অনেকটাই কৃশ ও হালকা দেখাচ্ছে। রবিবার সকালে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হলেও সময় সংকেত অনুযায়ী এগুলো গত ২৫ জুন তোলা হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, মাদুরো তার পরিবার ও অনুসারীদের আশ্বস্ত করতে এসব ছবি পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি লেখেন, "আমাদের ভালোবাসেন এমন সব মানুষ ও স্বজনদের জন্য আশার আলো হিসেবে এই ছবিগুলো পাঠালাম। আপনারা জেনে রাখুন, আমরা এখনো ভেঙে পড়িনি; আপনাদের ভালোবাসাকে বুকে ধারণ করেই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।" তিনি আরও জানান, তিনি ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এখনো দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী রয়েছেন।
মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও মাদক পাচারের একই অভিযোগে নিউ ইয়র্কের একই কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত মে মাসে স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল পাইস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা জানান, তার বাবা কারাগারে অধিকাংশ সময় বাইবেল পড়ে কাটাচ্ছেন এবং মাসে বাইরে যোগাযোগের জন্য মাত্র সাড়ে ৮ ঘণ্টা (৫১০ মিনিট) সময় পান।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ভেনিজুয়েলার সঙ্গে মার্কিন সরকারের এক ঐতিহাসিক সমঝোতার পরপরই মাদুরোর ছবি সামনে এল। সমঝোতা অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলা তার তেলের মজুদ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলে যুক্তরাষ্ট্রকে অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ দিতে সম্মত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম উর্ধ্বমুখী, তখন এই জ্বালানি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলেও তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২০২৭ সালের জুনে নিউ ইয়র্কের আদালতে এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।