হরমুজ প্রণালিতে ফের দুই মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত সাত দিনে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো হরমুজে মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলার দাবি করল ইরানের এই অভিজাত বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দুটি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। নৌযান দুটি মার্কিন বাহিনীর সামুদ্রিক ড্রোন বলে ধারণা করছে তারা।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে যায়। অপর নৌযানটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্থানটি ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূল থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পক্ষ থেকে বিদেশি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের ফলে এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।
গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অচল করে দেওয়ার দাবি করে ইরান। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানায় আইআরজিসি।
এর একদিন পর, ১০ সেপ্টেম্বর ফের দুটি মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলার দাবি করল ইরানের এই বাহিনী।
হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিক এসব হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহনপথে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।