ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করলেন ট্রাম্প

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।”

এদিকে শনিবার সকালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে কয়েকজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বোমা হামলার অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হোয়াইট হাউসের প্রেস কভারেজ নিয়ে সিএনএনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান বিরোধের মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, যুদ্ধের অবসান এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তখন নিউইয়র্কে অবস্থানরত আরাঘচি জানান, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা শুরু হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করলেও ইরানি গণমাধ্যম তখন তা অস্বীকার করেছিল। একই দিন নিউইয়র্কে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকও করেন আরাঘচি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিকল্পনায় সাত দিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জব্দকৃত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রস্তাবটিতে সমর্থন জানিয়েছে চীনও।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর আগে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবির মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, যার আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা ছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভেঙে যায় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশ ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।