ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। সংঘাতের উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি প্রশমনে ওয়াশিংটনের দিকে নতুন এক শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান একটি বিশেষ ৭ দিনের রোডম্যাপ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে বিশ্বমঞ্চেই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ইতিমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের দেওয়া প্রস্তাবটি স্পষ্ট ও সরাসরি। আগামী সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের মূল কয়েকটি দাবি মানতে হবে। প্রধান শর্ত হলো এই সময়ের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান ও হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে এতে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে ঠিক সাত দিনের মাথায় ইরানও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সব জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অবিলম্বে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা।
এই রোডম্যাপ নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতি তুঙ্গে থাকায় এত অল্প সময়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তা সত্ত্বেও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর এই উদ্যোগ কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।



