Sunday, September 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এআইয়ের ভুলে আরেকটু হলেই বেধে যেত চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ!

এআইয়ের দেওয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের বসন্তে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময়। এ যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা চীনের একটি জাহাজ নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন। তাতে বলা হয়, জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর জাহাজটি থামিয়ে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

জাহাজে ওঠার জন্য প্রস্তুত ছিল সশস্ত্র একটি দল। আকাশে অবস্থান করছিল মার্কিন সামরিক বিমানও। কিন্তু অভিযান শুরুর আগে প্রতিবেদনটির তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করা হয়। তখনই ধরা পড়ে, প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই ভুল।

পরে জানা যায়, ওই প্রতিবেদন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। চীনা জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে চ্যাটবট যে তথ্য দিয়েছিল, সেটিই ছিল ভুল।

ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এমন চারটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দুজনের ভাষ্য, চীনা জাহাজটিতে ওঠার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সশস্ত্র দল প্রস্তুত ছিল। অন্তত দুজন সূত্র জানান, সে সময় মার্কিন সামরিক বিমানও জাহাজটির ওপর দিয়ে উড়ছিল।

তবে অভিযান শুরুর আগে জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে পাওয়া তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই যাচাইয়ের পরই প্রতিবেদনে থাকা তথ্য ভুল হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক বিশ্লেষক এআই ব্যবহার করে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। 

একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনটি ছিল ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তার মতে, ভুল তথ্যের কারণে বড় ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল প্রতিবেদন

সিএনএনের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানবিষয়ক এক বিশ্লেষক চীনা জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে জানতে একটি চ্যাটবটে প্রশ্ন করেছিলেন। এজন্য হাওয়াইভিত্তিক মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

চ্যাটবট জাহাজটির পণ্য সম্পর্কে যে তথ্য দেয়, সেটির ভিত্তিতেই গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে আরও যাচাই করে দেখা যায়, সেই তথ্য সঠিক নয়। তবে চ্যাটবটটি বাণিজ্যিক কোনো এআই, নাকি মার্কিন সরকারের তৈরি কোনো ব্যবস্থা - তা স্পষ্ট নয়। জাহাজটিতে আসলে কী পণ্য ছিল, সেটিও জানা যায়নি।

সামরিক কাজে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, রসদ ব্যবস্থাপনা ও বাজেট পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এর ভুলের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ভুল বা কারসাজি করা তথ্যের ভিত্তিতে এআই কোনো সিদ্ধান্তে সহায়তা করলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলার সময় একটি চীনা জাহাজে মার্কিন বাহিনীর ওঠার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।

এআইয়ে পিছিয়ে থাকতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সামরিক বাহিনী এআই ব্যবহারে এগিয়ে থাকতে চায়। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়লে চীন বা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা এগিয়ে যেতে পারে।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এআই ব্যবহারের গতি বাড়াতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। এতে এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং নেতৃত্বের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এক সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “সামরিক বাহিনীর ভেতরে ব্যবহৃত বেশির ভাগ এআই ব্যবস্থা বাণিজ্যিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। পরে সেগুলো সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করে নেওয়া হয়।”

তদন্তের দাবি

সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ভুলগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে।

ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন মার্কিন সিনেটর সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণসহ এআই-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ভুল নিয়ে নজরদারি সংস্থাগুলোকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

   

About

Popular Links

x