পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। এর ফলে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে। প্রদেশটিতে এখন গভর্নরের শাসন জারি হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) পাকিস্তানের সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেছেন।
শাহবাজ শরিফের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এ সময় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে সরে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কারাবন্দী নেতা ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে তার দলের নেতা-কর্মীরা গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ছিল লংমার্চের সপ্তম দিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিনও লংমার্চটি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশেই অবস্থান করছিল।
ইমরানের মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে শনিবার প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ওই বৈঠকের পর প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।
এদিকে পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নরের শাসন কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না।