জর্ডানে একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলার সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের গির্জায় এ হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীরা গাড়িতে করে এসে গির্জায় ঢোকে এবং গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি মোহাম্মদ ঘটনাটিকে জঘন্য হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, “কারাককে লক্ষ্য করে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।“ এক্সে দেওয়া পোস্টে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “কাপুরুষোচিত বা আকস্মিক কোনো হামলা জর্ডানের মানুষের ঐক্য ও বন্ধনকে ভাঙতে পারবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে।“
শোকাহতদের একজন খালেদ বুরকান জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকাকে জানান, ডজন ডজন মানুষ তখন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য গির্জার ভেতরে ছিলেন। এমন সময় গোলাগুলি শুরু হয়। তার ভাষ্য, রাইফেল ও পিস্তল হাতে দুই হামলাকারী কয়েক মিনিট ধরে শোকার্তদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
তবে বিবিসির যাচাই করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিন বন্দুকধারী রাস্তা থেকে গির্জার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজনকে গির্জার প্রাঙ্গণে গাড়ি ঢোকার পথের দিকে যেতে দেখা যায়। এরপর তারা অল্প সময়ের জন্য পিছিয়ে গিয়ে তৃতীয় একজনকে নিয়ে ফিরে আসে। তিনজনের সবার হাতেই হাতবন্দুক ছিল বলে মনে হয়েছে। হামলার পরের আলাদা একটি ভিডিওতে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাটিতে কিছু মৃত ও আহত মানুষকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিগগিরই এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন, যেখানে সব মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জর্ডানের কারাকে একটি বড় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বাস। দেশটিতে এ ধরনের হামলা বিরল হলেও অতীতে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।