Sunday, October 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নুডলস খেয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

রবিবার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ। 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে তারা রাতের খাবারে নুডলস খান। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়া বলে মনে করা হলেও, পুলিশের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে কোনো তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নিহত মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তার দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এদিকে মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবী) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটির মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলেও মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্য বিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন খাবারের মোড়ক পরীক্ষা করে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাননি।

ওপি সিং আরও জানান, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেলেও নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

   

About

Popular Links

x