ভারতের উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট যাত্রী সবাই নিহত

ভারতের উত্তরাখণ্ডে জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার বিদ্ধস্ত হয়ে পাইলট ও পাঁচ তীর্থযাত্রী মারা গেছেন। বদ্রীনাথ থেকে পাঁচ তীর্থযাত্রী নিয়ে রওনা দিয়ে দেরাদুন ফেরার পথে নিখোঁজ হয় হেলিকপ্টারটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে তীর্থকেন্দ্র দেরাদুনের সাহাসত্রাধারা থেকে জোশীমঠের উদ্দেশে রওনা দেয় হেলিকপ্টারটি। পরে চামোলির কাছে ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনা কবলিত ‘ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে বেসরকারি কোম্পানির হেলিকপ্টারটিতে পাইলট ছাড়াও পাঁচজন তীর্থযাত্রী ছিলেন। নিহত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন, পাইলট ক্যাপ্টেন হিমাংশু এবং পাঁচ যাত্রী প্রতাপ, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে এবং এইচ এস নটরাজ। তারা সবাই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা।

চামোলির পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পানওয়ার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধার কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।

খবর পাওয়ার পরপরই চামোলি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী এবং ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।

জানা গেছে, হঠাৎ খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিপদে পড়ে কপ্টারটি। জোশীমঠ উপত্যকার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কপ্টারের ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপরই ওই এলাকায় কপ্টার ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

জোশীমঠের পুলিশ কর্মকর্তা মনোহর কানওয়াল জানান, কপ্টারে থাকা পাইলট ও পাঁচ যাত্রী সকলেই নিহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের সব হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোশীমঠ এলাকার হাথি পর্বতের পিছনে ছায়ি গ্রামের কাছে ওই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মারওয়ারি সেতুর কাছে জেপি পাওয়ার হাউসের অদূরে পাহাড়ের গায়ে ভেঙে পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়া, অবিরাম বৃষ্টি এবং দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে ওই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।