মার্কিন সিনেট ও কংগ্রেস দুই জায়গাতেই রিপাবলিকানদের পিছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলো ডেমোক্রেটরা। সিনেটে ডেমোক্রেটদের দখলে এখন ৫৩টি আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪০টি আসন। রিপাবলিকানদের থেকে ৬টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্রেটরা।
কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছে ডেমোক্রেটরা। তাদের দখলে এখন ১৯৭টি আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১১৪টি আসন।
জনমত সমীক্ষায় এমন ফলাফলেরই আভাস পাওয়া গিয়েছিল। সংবাদসংস্থা এপি-র ভোট জরিপ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি জনগণের সমর্থন কমেছে। তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন না বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় এই বয়সী ভোটারদের সমর্থন ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত ছিল।
তবে এবারের নির্বাচনে চিত্র ভিন্ন। দেশজুড়ে ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের ১০ জনের মধ্যে সাত জনই তাদের নিজ নিজ এলাকায় কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
নর্থ এবং সাউথ ক্যারোলিনায় সেনেট আসন ডেমোক্রেটদের দখলে
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ এবং সাউথ ক্যারোলিনার সিনেট আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। নর্থ ক্যারোলিনায় জয়ী সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
সাউথ ক্যারোলিনায় টানটান লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করেছে ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যানি অ্যানড্রিউজ।
টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট জেমস তালারিকোর জয়
টেক্সাসে সেনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জেমস তালারিকো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন তিনি।
তালারিকোর এই জয় ডেমোক্রেটদের জন্য ঐতিহাসিক। কারণ, গত ৩৮ বছরে টেক্সাসে কোনো সেনেট নির্বাচনে তারা জয় পায়নি। তার এই জয়ের ফলে মার্কিন সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে ডেমোক্রেটরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সাসে ১৪% ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ২০২৩ সালের অভিশংসন প্রক্রিয়া এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতি-সংক্রান্ত মামলা-সহ একাধিক বিতর্কে জড়িত ছিলেন প্যাক্সটন।
ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে রামাস্বামীকে হারিয়ে অ্যামি অ্যাক্টনের জয়
ওহাইও’র গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন। এই রাজ্যে প্রথম ডেমোক্রেট নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ তৈরি করেছেন তিনি। রামাস্বামী ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী।
পেশায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক অ্যামি অ্যাক্টন কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওহাইওর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেক রামাস্বামী একজন ধনকুবের। তিনি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন।
ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্রেটদের জয়
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থীরা। এই তিন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।
জর্জিয়ায় ৩৯ বছর বয়সী সেনেটর জন অসফের জয়ের বিষয়টি বয়সের কারণে বিশেষ আলোচনায় এলেও ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেনেট নির্বাচনে তেমন কোনো চমক দেখা যায়নি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিজের রাজ্য ডেলাওয়্যারে আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্রেট সেনেটর ক্রিস কুনস। কয়েক দশক ধরেই রাজ্যটি কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়ে আসছে। ১৯৯৪ সালের পর আর কোনো সেনেট নির্বাচনে জয় পায়নি রিপাবলিকান পার্টি।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ম্যাসাচুসেটসে এড মার্কির জয়ও ছিল অনেকটা প্রত্যাশিত।
অন্যদিকে, আরও উত্তরে নিউ হ্যাম্পশায়ারে সেনেটের একটি শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন সুনুনুকে হারিয়েছেন ডেমোক্রেট ক্রিস পাপাস। আসনটি আগে ডেমোক্রেট সিনেটর জিন শাহিনের দখলে ছিল। অবসরে যাওয়ার কারণে তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নেননি।
এপি-র পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফলাফলে নিশ্চিত হলে, পাপাস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ।