বুলগেরিয়ার পশ্চিমা সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেই গিউরভকে পরাজিত করে রান-অফ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন পুতিনপন্থী অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা।
সোমবার (২ নভেম্বর) ৯৯.৯৫ % ভোট গণনার পর দেখা গেছে, রুশপন্থী ইলিয়ানা ইয়োতোভা পেয়েছেন ৫৭.৫৮ % ভোট এবং তার প্রতিপক্ষ আন্দ্রেই গিউরভ পেয়েছেন ৩৯.৪৭ % ভোট। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬২ বছর বয়সী ইয়োতোভা বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপ্রধান হতে চলেছেন। তিনি ইউক্রেনে সামরিক সহায়তারবিরোধী এবং মস্কোর সাথে সংলাপের পক্ষে অবস্থান নেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অক্টোবর মাসে বুলগেরিয়ার উপকূলে বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত একটি আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদের জন্য আয়োজিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ২৯ %। সংবিধান অনুযায়ী, বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাই বেশি।
রবিবার ইলিয়ানা ইয়োতোভা বলেন, ‘‘আমি ভোট দিয়েছি একটি শক্তিশালী ইউরোপে বুলগেরিয়াকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে, তবে তা হতে হবে এমন একটি বুলগেরিয়া, যার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি থাকবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সময় যে নিজের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর তুলতে পারবে।’’
তার প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেই গিউরভ পশ্চিমাপন্থী ও সংস্কারবাদী দলগুলোর সমর্থিত এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে আসছেন।
ভোট দেওয়ার পর আন্দ্রেই গিউরভ বলেন, ‘‘আজ আমি একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং ইউরোপীয় ভাবধারার বুলগেরিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছি।’’
আন্দ্রেই গিউরভ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কিয়েভের (ইউক্রেন) সাথে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। রান-অফ নির্বাচনের আগে এক টেলিভিশন বিতর্কে তিনি কৃষ্ণ সাগরের হামলার জন্য রাশিয়াকে সরাসরি অভিযুক্ত না করায় ইয়োতোভার সমালোচনা করেন।
সার্বিয়া এবং হাঙ্গেরিতে রুশপন্থী নেতাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার যে ধারা সমগ্র ইউরোপজুড়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, এই নির্বাচনী ফলাফল তার উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে।
গত সপ্তাহে সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রুশপন্থী নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচ ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’বিরোধী আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন।
এর আগে, এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুতিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির ভিক্তর ওরবান ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হন।



