২০১৫ সালের ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসসহ বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আইএস।
আত্মঘাতী ওই বোমা হামলার ঘটনায় ১৩০ জন সাধারণ জনগণ এবং তিন জঙ্গি প্রাণ হারালেও বেঁচে যান আরেক জঙ্গি সালাহ আব্দেসলাম।
২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর জার্মানি-ফ্রান্স ফুটবল ম্যাচ চলার সময় বাটাক্লানের কনসার্ট হলে আত্মঘাতী হামলা চালানোর কথা ছিল আব্দেসলামের। কীভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান সেই কথাই বুধবার (৩০ মার্চ) জানিয়েছেন প্যারিসের একটি বিশেষ আদালতের কাছে।
৩২ বছর বয়সী সালাহ জানান, হামলার আগে হঠাৎ করেই আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন তিনি। হামলার পর “সুইসাইড ভেস্ট” খুলে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। চলে যান নিজ শহর ব্রাসেলসে।
সেখান থেকেই ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার করা হয় আত্মঘাতী হামলায় জড়িত জঙ্গিদের মধ্যে একমাত্র জীবিত সালাহকে।
“শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করেই বেল্টের বোতাম টেপার সিদ্ধান্ত বদলেছিলাম৷ তবে, কাপুরুষতা বা ভয় থেকে সিদ্ধান্ত বদলাইনি, আসলে সেই মুহূর্তে আর এটা করতে চাইনি, ব্যাস...,” এভাবেই ৬ বছর আগে সেই আত্মঘাতী হামলা থেকে থেকে পিছিয়ে আসার কথা জানান সালাহ।
সালাহ আরও বলেন, “তখন বয়স মাত্র ২৫। অন্য জিহাদীদের বেঁচে ফেরার কারণ জানিয়ে বলেছিলাম হয়তো বেল্ট ঠিকমতো কাজ করেনি। কিন্তু এই। মিথ্যা বলার জন্য লজ্জা লাগছিল। তাদের চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস বোমা হামলায় অন্তত ২০ জঙ্গি জড়িত ছিল বলে ফ্রান্স পুলিশের সন্দেহ৷ তবে, এদের মধ্যে সিরিয়ায় আইএস-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে অন্তত ৫ জন৷ আত্মঘাতী হামলায় ৩ জন ও আরও এখনও ৬ জন পলাতক আছেন বলে পুলিশের ধারণা।