ইরানে নারীদের হিজাব ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করলে ফৌজদারি আদালতে বিচার

ইরানে নারীদের হিজাব ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ফৌজদারি আদালতে বিচার করা হবে। বিচারে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ রাখা হবে না।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান ইরানের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আলি জামাদি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

আলি জামাদি বলেন, “হিজাব না পরার বিষয়টিকে উৎসাহিত করার অপরাধের বিচার ফৌজদারি আদালতে হবে। বিচারের রায়ই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহনযোগ্য হবে না।”

এদিকে, হিজাব ছাড়া চলাফেরা করা নারীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে শনিবার বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ক্যামেরা বসিয়েছে দেশটির পুলিশ। এমন পরিকল্পনার কথা গত সপ্তাহে এক ঘোষণাতে জানিয়েছিল পুলিশ। 

দেশটিতে আগে থেকেই বাধ্যতামূলক ছিল হিজাব। তবে সম্প্রতি দেশটির নারীরা বাধ্যতামূলক এই পোশাক নিয়ে আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। দেশটির শপিং মল, রেস্তোরাঁর মতো জনসমাগমস্থলে হিজাব ছাড়াই চলাফেরা করছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী, এ সংখ্যা বাড়ছেই। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্প্রতি দেশটির নারী সেলিব্রিটি ও অ্যাক্টিভিস্টরা হিজাব ছাড়া ছবি ও ভিডিও আপলোড করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত জানালো দেশটির সরকার।

আল জামাদি বলেন, “হিজাব না পরার চেয়ে হিজাববিরোধী প্রচার এবং হিজাব ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করার শাস্তি হবে অনেক বেশি। স্পষ্টতই এটি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার মতো একটি বিষয়।”

তবে কোন কোন কার্যক্রম হিজাববিরোধী প্রচার হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে তেহরানে গ্রেপ্তার হন ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি। পুলিশি হেফাজতে কয়েকদিন পর মাহসার মৃত্যু হয়। তরুণীর পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে মাহসার মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ বলছে, আগের শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন আমিনি। সেদিন থেকেই ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। 

বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নেয় ইরানের পুলিশ। ডিসেম্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর করেছে ইরান সরকার।