ইরান সরকারের বিভিন্ন নীতি নারী ও মেয়ে শিশুদের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নারী বিষয়ক পর্ষদ “ইউএনসিএসডাব্লিউ” থেকে দেশটিকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছে।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সমাজ বিষয়ক কমিটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২৯-৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান আর ওই কমিটিতে থাকতে পারবে না।
মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে ২৯ ভোট পড়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে আটটি দেশ এবং ভোটে অংশ নেয়নি ১৬টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশি হেফাজতে ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন ইরানের নারীরা। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ইরানের প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যাচার, গণগ্রেপ্তার, হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নারী অধিকার সংক্রান্ত কমিটিতে ইরানের থাকার কোনো যোগ্যতা নেই বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া অবশ্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সমাজ বিষয়ক কমিটি আদৌ এ ধরনের ভোটের আয়োজন করতে পারে কি-না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
চার বছরের জন্য বিভিন্ন দেশ জাতিসংঘের ইউএনসিএসডাব্লিউ কমিটিতে যোগ দিতে পারেন। বর্তমান কমিটি ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়েছিল। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই কমিটি থাকবে। ফলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইরান আর এই কমিটির কোনো বৈঠকে যোগ দিতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস গত নভেম্বর মাস থেকে ইউএনসিএসডাব্লিউ থেকে ইরানকে সরানোর দাবি জানাতে শুরু করেছিলেন। এদিনের ভোটের পর টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, এটি ইরানের নারীদের জয়।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই ভোটের মধ্য দিয়েই ইরানের আন্দোলনকারী নারীদের পাশে দাঁড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। এর আগেও ইরানকে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে তারা।
অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে ইরান এখনো পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি।