ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশটি একর পর এক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার উচ্চ চাপসমৃদ্ধ কঠিন জ্বালানির একটি ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। মনে করা হচ্ছে, দ্রুত গতিতে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শক্তি অর্জনে নতুন এই ইঞ্জিনটি তৈরি করেছে পিয়ংইয়ং।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সোহা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ইঞ্জিনটির সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ইঞ্জিন এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণ কাজে কেন্দ্রটি ব্যবহার করা হয়।

কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া ও সতর্কতা ছাড়া যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায় সে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। এরই ফসল ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নতুন এই ইঞ্জিন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর লেইফ এরিক এসলে বলেছেন, “তরল (গ্যাস ও জ্বালানি তেল) চালিত অস্ত্রের চেয়ে, কঠিন জ্বালানি (কয়লার মতো জ্বালানি) সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুল ও দ্রুত গতিতে ছোড়া যায়। এছাড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধচলাকালীন সময়ে গোপন রাখা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “কঠিন জ্বালানি সমৃদ্ধ ইঞ্জিন দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারলে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ফোর্স বহুমুখী এবং আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠবে।”

লিম ইউল-চুল নামে দক্ষিণ কোরিয়ার অপর এক প্রফেসর বলেছেন, “উত্তর কোরিয়ার এই নতুন ইঞ্জিন তৈরি ও পরীক্ষা চালানো ইঙ্গিত দিচ্ছে তারা আরও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ও সাবমেরিন থেকে ছোড়া যায় এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী বছর কঠিন জ্বালানি সমৃদ্ধ ইঞ্জিন দিয়ে উত্তর কোরিয়া নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে; এটি আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না।”

এদিকে গত বছর পাঁচটি নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এরমধ্যে অন্যতম একটি ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কঠিন জ্বালানির ইঞ্জিন। সফল পরীক্ষা শেষে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন বলেছেন, “পাঁচটি প্রধান কাজ শেষ করার আরেকটি ধাপের সমস্যা সফলভাবে সমাধান হয়েছে।”