চমস্কি: যুদ্ধ ছড়াতে পারে পুরো পৃথিবীজুড়ে

আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে রাশিয়া-ইউক্রেনে যে যুদ্ধ চলছে তাতে পুরো বিশ্বে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ নেমে আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন ভাষাবিদ ও দার্শনিক অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি। গত এপ্রিলে ইউক্রেন সংকট শুরুর পরপরই কিয়েভকে কিছু ছাড় দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বিরোধ মিমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন এই দার্শনিক।

তিনি বলেন, “বিরোধ মিমাংসার অনেক উপায় রয়েছে। তবে এই পথ দিনদিন সঙ্কুচিত হচ্ছে। এজন্য পাল্টাপাল্টি দোষারোপের সংস্কৃতি ছাড়তে হবে।”

ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করা অধ্যাপক চমস্কি এমন শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

এদিকে, সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া। তবে কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা সমর্থকরা আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ তার।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

এতে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট ছড়িয়ে পড়েছে।

চমস্কি বলেন, “সংঘাত যত বেশি সময় ধরে চলতে থাকবে। প্রতিটি পক্ষ যত কঠোর শর্ত আরোপ করবে, এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা ততটাই কঠিন হবে।”

যুদ্ধটি এড়ানো যেতো কি-না এমন প্রশ্নে এমআইটি ইমেরিটাস অধ্যাপক বলেন, “যুদ্ধটি অনেক আগেই এড়ানো যেতো। এমনকি এখনও সব সম্ভাবনা শেষ হয়নি।”

“সংঘাত কমতে শুরু করার পর রাশিয়া আলোচনার বিষয়ে কথা বললেও ইউক্রেনের সহযোগীরা শান্তি চুক্তির ব্যাপারে অমনোযোগী থাকায় একটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুদ্ধ অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে পারে।”

চমস্কি বলেন, “সমস্ত পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখানে ভাষা বড় ভূমিকা রাখবে না।”

কোভিড-১৯ মহামারির আঘাত যখন কিছুটা প্রশমিত হচ্ছিলো, তখনই শুরু হয় ইউক্রেন সংকট। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা এবং আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী, এমন প্রশ্নের জবাবে চমস্কি বলেন, “এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই। প্রতিটি সমস্যাকে তার নিজস্ব উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের জবাব প্রায় সবার অজানা। তবে যার যার কাছে তার তার বিকল্প আছে। কিন্তু সেটি সহজ নয়।”

বিশ্বের পরাশক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে। ফলে গণতন্ত্রের রূপ দেওয়ার নামে তৃতীয় কোনো দেশে যুদ্ধ চালালেও একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য আশাবাদী এই দার্শনিক।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “ইতিহাস এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় ভরা। ১৯৪৫ সালে জার্মানি ও ফ্রান্স যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে যেতে পারে ও মিত্র হতে পারে সেটি কেউ ভাবেনি। তবে এটি হয়েছে। ফলে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। আমাদের উচিৎ সেই সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করে যাওয়া।”