জন্মহার বাড়াতে বেতনসহ বৈবাহিক ছুটি বাড়াল চীন

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীন সরকার “এক সন্তান নীতি” গ্রহণ করেছিল, যার প্রভাব পড়েছে চীনের জন্মহারে। ২০১৬ সালে চীন সরকার এই বিধিনিষেধ শিথিল করেছ। তারপরও জনসংখ্যার বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দেশটি জন্মহার বৃদ্ধিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। সবশেষ বিয়েতে জনগণকে উৎসাহী করে শিশু জন্মহার বাড়াতে, তরুণ নবদম্পতিদের ৩০ দিনের বেতনসহ ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ।

মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) চীনের ক্ষমতাসীন পার্টির মুখপত্র “পিপলস ডেইলি হেলথ” এমন তথ্য জানিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।    

চীনে বিয়ের জন্য ন্যূনতম ৩ দিনের বেতনসহ ছুটি পাওয়া যায়, তবে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষগুলো চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আরও উদারভাবে ছুটি দিতে পারছে। উত্তর-পশ্চিমের গাংসু প্রদেশ এবং কয়লা-উৎপাদক সাংশি প্রদেশ এখন ৩০ দিনের বৈবাহিক ছুটি দিচ্ছে। সাংহাই দিচ্ছে ১০ দিনের, অন্যদিকে সিচুয়ানে মাত্র তিনদিনেরই দেওয়া হচ্ছে। 

চীনের সাউথওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্সের সামাজিক উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিন ইয়াং হাইয়াংকে উদ্ধৃত করে পিপলস ডেইলি হেলথ জানায়, “জন্মহার বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হলো বৈবাহিক ছুটি বৃদ্ধি। তবে যেসব প্রদেশ ও শহরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি মন্থর তারাই ছুটি বাড়িয়েছে।”

ইয়াং জানান, এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন নীতি সহায়তা জরুরি দরকার। যেমন আবাসনে ভর্তুকি, পুরুষদের জন্যও পিতৃত্বকালীন ছুটি ইত্যাদি। 

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে বর্তমান জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কম। আর এ কারণে দিনে দিনে কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জন্মহার কমের বিষয়টি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কোণঠাসা করে দিতে পারে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে দেশটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজারে। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৮ লাখ ৫০ হাজার কম। ২০২২ সালে দেশটিতে জন্ম নিয়েছে ৯০ লাখ ৫৬ হাজর শিশু। আর একই সময় মারা গেছেন ১ কোটি ৪১ হাজার মানুষ।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান জন্মহার যদি না পাল্টায় তাহলে চীনের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ ১০৯ মিলিয়ন কমবে। যা ২০১৯ সালের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

এর আগে দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ জন্মহার বাড়াতে বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টিকে শিথিল করেছিল। এছাড়া শুক্রাণু ব্যাংক সমৃদ্ধ করতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৬০ সালের পর দেশটিতে জনসংখ্যা বাড়া শুরু করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যার ভয়ে ১৯৮০ সালে চীন বিতর্কিত “এক শিশু” নীতি গ্রহণ করে। যার কারণে জনসংখ্যা অনেক বেশি হ্রাস পায়। ভুল উপলব্ধি করতে পেরে ২০১৬ সালে এই নীতি পরিহার করে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলভেদে চীনে কোনো দম্পতি চাইলে তিন ছেলে-মেয়েও নিতে পারবেন। তবে এ বিষটি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেনি।

জীবনমানের খরচ বৃদ্ধি, বেশিরভাগ নারীর কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং উচ্চ শিক্ষার প্রতি ঝোঁক থাকার বিষয়গুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ধীর করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার প্রফেসর শিউজান পেং বলেছেন, “কয়েক দশক পুরোনো নীতির কারণে চীনের সাধারণ মানুষ ছোটো পরিবারের সঙ্গেই বেশি মানানসই হয়ে গেছেন। জন্মহার বৃদ্ধিতে চীনা সরকারকে কার্যকরী নীতি গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জনসংখ্যা ক্রমশ কমতেই থাকবে।”