বিয়েবিচ্ছেদের পরও নারীদের স্বামীর কাছে ফিরতে বাধ্য করছে তালেবান

আফগানিস্তানে ক্ষমতা নেওয়ার পর ইসলামের “কঠোর অনুশাসন” চালু করেছে তালেবানা। তারা দেশটির নারী অধিকারকে খর্ব করছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। বিয়েবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে তারা। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীদের আবার তাদের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য করছে তারা।

সোমবার (৬ মার্চ) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির আইনজীবীরা জানিয়েছেন তালেবান কমান্ডাররা বিবাহবিচ্ছেদ বাতিল করে দেওয়ায় বেশ কয়েকজন নারীকে আবার তাদের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবানশাসিত সরকার ইসলামের কঠোর ব্যাখ্যা মেনে চলে এবং নারীদের জন্য তারা অতি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাকে “লিঙ্গ-ভিত্তিক বর্ণবাদ” বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।  

আফগানিস্তানে কর্মরত জাতিসংঘ মিশন জানায়, দেশটিতে প্রতি ১০ নারীর ৯ জন তার সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, যৌন বা মানসিক নির্যাতনের শিকার।

আফগানিস্তানে বিবাহবিচ্ছেদ নির্যাতনের অপরাধের চেয়েও অধিক ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত এবং স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদে যাওয়া নারীদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার সংস্কৃতি সেদেশে নেই।

এদিকে এএফপির প্রশ্নে এক তালেবান কর্মকর্তা জানান, আগে বিবাহবিচ্ছেদে যাওয়া নারীদের জোরপূর্বক তাদের স্বামীর কাছে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে কি-না তালেবান সেটি খতিয়ে দেখবে।

তালেবান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ইনায়াতুল্লাহ বলেন, “এমন অভিযোগ পেলে শরিয়া অনুযায়ী সেগুলোর তদন্ত করা হবে।”

তালেবান শাসন পূর্ববর্তী সরকারের অধীনে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাগুলোকে স্বীকার করবেন কি-না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয়। দার আল-ইফতা (শরিয়া নিয়ে রায় দেয়) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”