মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে মাহসা আমিনির বাবা আটক

পুলিশি  মাহসা আমিনির মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বাবা আমজাদ আমিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৬ সেপ্টম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ইরানের ধর্মীয় নিয়ম মেনে হিজাব না পরায় গ্রেপ্তারের পর নীতি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা।

এ মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে, যা কয়েক মাস স্থায়ী ছিল।

ইরানি সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট আউটলেট ইরানওয়্যার এর প্রতিষ্ঠাতা মাজিয়ার বাহারি সিএনএনকে বলেন, মেয়ের মৃত্যুর পরের মাসে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমিনির বাবা আমজাদকে নিয়মিত ডেকে পাঠিয়েছেন। 

বাহারি সিএনএনকে বলেন, “আজ তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করা হয়।”

ইরানওয়্যার শনিবার জানায়, মেয়ের মৃত্যুর এক বছর উপলক্ষে শুক্রবার পশ্চিম কুর্দি শহর সাক্কেজে কবর পরিদর্শন করতে যায় আমিনির পরিবার। এদিন কবরস্থানের ওপর হেলিকপ্টার ঘুরতে দেখা যায়। এছাড়া অসংখ্য সামরিক কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদেরও সেখানে দেখা যায়।

পরের দিন আমজাদকে তিন-চার ঘণ্টা আটক করে রাখা হয়। আমজাদ আমিনিকে ছেড়ে দেওয়ার আগে তার মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

আমিনির বাবা-মা এ সপ্তাহের শুরুতে একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, সরকারি সতর্কতা সত্ত্বেও, তারা সাকেজে তাদের কন্যার কবরে একটি “ঐতিহ্যগত এবং ধর্মীয় বার্ষিকী অনুষ্ঠান” পালন করবে।

যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ শনিবার আমজাদকে আটকের খবরকে জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ টেলিগ্রামের একটি পোস্টে প্রতিবেদনটিকে “মিথ্যা” বলে বর্ণনা করেছে।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রতিবেদনে পশ্চিম ইরানের সাকেজে আমিনির বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছিল।

গত মাসে একটি প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ “ভুক্তভোগীদের পরিবারকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকে রাখার, সমাধিস্থলে শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর নিষ্ঠুর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নিহতদের কবর ধ্বংস করছে।’’

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে বিক্ষোভে ৪০ জনেরও বেশি শিশুসহ ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।