রাশিয়ায় এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

এলজিবিটিকিউদের আন্দোলনকে চরমপন্থী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছেন রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। এ ধরনের যেকোনো কার্যক্রম দেশটিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে এলজিবিটিকিউ প্লাস মানুষেরা ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হতে পারেন।

রুশ বিচার মন্ত্রণালয়ের এক উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ নভেম্বর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট “আন্তর্জাতিক এলজিবিটি সামাজিক আন্দোলনকে” একটি “চরমপন্থী” সংগঠন হিসেবে নথিভুক্ত করেন।

আইনজীবীদের আশঙ্কা, এই রায়ের ফলে মানবাধিকার আন্দোলনকারী এবং “এলজিবিটিকিউ+” প্রতীক ব্যবহারকারী এবং যারা অনুদান দিয়ে তাদের সহায়তা করেন বা প্রথাবিরোধী মূল্যবোধের সমর্থন করেন তারা এখন নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। ১০ জানুয়ারি থেকে রাশিয়ায় এলজিবিটিকিউর সঙ্গে সম্পর্কিত যে কারো ওপর এই রায় কার্যকর হবে।

রাশিয়ার আইন অনুযায়ী, চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে এই সংক্রান্ত নিয়ম বা সিদ্ধান্তগুলো এখনও অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ প্রতীক প্রদর্শনের প্রথম অপরাধে অভিযুক্তকে এক থেকে দুই হাজার রুবল (১০ থেকে ২০ ইউরো) জরিমানা অথবা ১৫ দিন পর্যন্ত আটক রাখা হতে পারে। দ্বিতীয়বার নিয়ম ভাঙলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ছয় লাখ থেকে ১০ লাখ রুবেল জরিমানা করা হতে পারে।

রুশ মানবাধিকার গোষ্ঠী পেরভি ওটডেলের আইনজীবী ম্যাক্সিম ওলেনিচেভ বলেন, “নিষিদ্ধ প্রতীকের আওতায় কী পড়বে তা আদালতের সিদ্ধান্তে উল্লেখ থাকা উচিত।” তাই এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ হবে কি-না তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ওলেনিচেভ বলেন, “বিচার মন্ত্রণালয়ের এই মামলায় কোনো বিবাদী পক্ষ ছিল না। তাই এর বিরুদ্ধে আপিল করার আইনি অবস্থান নেই। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল এলজিবিটি সোশ্যাল মুভমেন্ট নামে আন্দোলনকারীরা একটি সংগঠন নিবন্ধন করলেও বিচার মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে নেওয়া পদক্ষেপে তাদের উপেক্ষা করেছে।”

এলজিবিটিকিউদের ওপর কড়াকড়ির কারণে অনেক অ্যাক্টিভিস্ট রাশিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন সেন্টার টি-এর কর্মীরাও। তারা ট্রান্সজেন্ডারদের সমর্থনে কাজ করে। তবে কাজের জন্য বাধ্য হয়ে তাদের কেউ কেউ এখন রাশিয়ায় রয়ে গেছেন।

সেন্টার-টি এর নেতা এবং প্রতিষ্ঠাতা জ্যান ডভোরকিন নিজেও আর রাশিয়ায় থাকেন না। তিনি বলেন, ‘‘যারা তাদের পরিচয় বা লিঙ্গ বদলের কারণে নির্যাতিত বা যাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আবাসনসহ জরুরি সহায়তা করা হতো। তবে নিরাপত্তার কারণে, আমরা আর এই ধরনের পরিষেবার বিজ্ঞাপন দেব না।”

এমন পরিস্থিতিতেও নিজেদের সদস্য ও মনোবিজ্ঞানীদের মধ্যে অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান তারা। জানান, ‘‘আমরা খুব সম্ভবত কোনো ভিডিও লিঙ্ক ছাড়াই এবং শুধুমাত্র যাচাই করা অংশগ্রহণকারীদের নিয়েই সম্মেলন চালিয়ে যাব।”

২০১১ সাল থেকে রাশিয়ায় এলজিবিটিকিউদের অধিকারের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে স্ফেরা। গ্রুপের আইনি সহায়তা প্রকল্পের প্রধান একাতেরিনা ডিকোভস্কায়া জানান, তার দলের কর্মীদের একটি অংশ বিদেশে থাকেন এবং একটি নিরাপদ অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বেশিরভাগ কাজ ও যোগাযোগ চালান। 

তিনি বলেন,  ‘‘এলজিবিটিকিউ ছাড়াও এই গোষ্ঠীর সমর্থনকারী মানুষজন বা আইনজীবীদের জন্য হুমকি তৈরি করছে এই আইন। আমাদের দলের সদস্যদের এবং আমাদের অনুদান যারা দেন, তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি রয়েছে।”