বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স। সোমবার (৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি বিলে সমর্থন জানিয়ে ভোট দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যরা।
নারীদের গর্ভপাতের “স্বাধীনতাকে নিশ্চয়তা” দিয়ে ফ্রান্সের ১৯৫৮ সালের সংবিধানে সংশোধনী আনার জন্য ভোট দেন দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যরা। গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া-সংক্রান্ত এই বিলের পক্ষে পড়েছে ৭৮০টি ভোট। বিপক্ষে পড়েছে ৭২টি ভোট।
রাজধানী প্যারিস থেকে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে ভার্সাইলেস প্রাসাদে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিলটি পাশের পর প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে জড়ো হয়ে আতশবাজি জ্বালিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও গর্ভপাত বিষয়ক অধিকারকর্মীরা। এ সময় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ভেসে ওঠে “আমার শরীর আমার পছন্দ” লেখা বার্তা।
গর্ভপাতের অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এ ঘটনাকে “ফরাসি গর্ব” বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো। এর মধ্য দিয়ে গর্ভপাতের বিষয়ে নারীদের অধিকার নিয়ে সারা বিশ্বে বার্তা পৌঁছাল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গর্ভপাত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের তুলনায় ফ্রান্সের জনগণ অনেক উদার। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০% গর্ভপাতকে অবৈধ কোনো বিষয় বলে মনে করেন না। সোমবার আইন পাশের মাধ্যমে জনগণের এই ধারণাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে ফরাসি পার্লামেন্ট।
গর্ভপাতের অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ১৯৫৮ সালে প্রণীত ফ্রান্সের সংবিধানে ২৫তম সংশোধনী আনা হলো। এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে দেশটির সংবিধান সংশোধন হয়। তবে এই পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেছেন গর্ভপাতবিরোধীরা।