বাংলাদেশি দোকানির থেকে ১ লাখ কলা কিনবেন সেই ক্রেতা

কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সদেবিজের নিলামে কলার একটি শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে ৬.২ মিলিয়ন ডলারে। নিলাম শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে সেটি কিনে নেন চীনা বংশোদ্ভূত ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা জাস্টিন সান।

অবাক করা তথ্য হলো নিউইয়র্কের ম্যানহাটন শহরের এক বাংলাদেশি ফল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাত্র ৩৫ সেন্ট (৪২ টাকায়) কলাটি কেনা হয়। এরপর দেওয়ালে স্কচটেপের মাধ্যমে সেঁটে দিয়ে কলাটিকে দেওয়া হয় “শিল্পকর্মের” খেতাব।

মাত্র ৪২ টাকায় কেনা কলাটি ৭৪ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার পর এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়। যে বাংলাদেশির কাছ থেকে কলাটি কেনা হয় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

যে বাংলাদেশির দোকান থেকে কলাটি কেনা হয়, তার নাম শাহ আলম। তার দোকান থেকে কেনা কলা যে নিলামে ৬.২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে তা জানতেনও না তিনি। শুনে বেশ অবাক হয়েছিলেন। নিজের বিক্রি করা কলার এমন আকাশচুম্বী দাম শোনার পর কাঁদতে শুরু করেন।

নিউইয়র্ক টাইমস শাহ আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৭৪ কোটি টাকায় কলা কেনা জাস্টিন সান ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশি এই ফল বিক্রেতাকে সহায়তা করতে তার কাছ থেকে ১ লাখ কলা কিনবেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ৭৪ বছর বয়সি শাহ আলম বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। আমার জীবনে এমন টাকা কখনও আসেনি; এত টাকা আমি কখনও দেখিনি।” তার এমন কথা গভীরভাবে স্পর্শ করেছে কলাটির ক্রেতা জাস্টিন সানকে। তিনি বলেন, “এই শিল্পকর্মে তার (শাহ আলম) ভূমিকা কোনোভাবেই অবহেলা করার মতো নয়।”

ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ জাস্টিন সান তার এক্স (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে বাংলাদেশি শাহ আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “শাহ আলমকে ধন্যবাদ জানাতে আমি নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার দোকান থেকে ১ লাখ কলা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কলাগুলো তার দোকানের মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। তবে কলা নিতে হলে একটি বৈধ আইডি কার্ড দেখাতে হবে।”

শুধু যে জাস্টিন সানই বাংলাদেশি শাহ আলমের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা নয়। তার জন্য খোলা হয়েছে একটি গোফান্ড মি অ্যাকাউন্ট। যেখানে তার জন্য অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তার জন্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়ে গেছে।