জলবায়ু ক্ষতিপূরণে ঐতিহাসিক রায়

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশ মামলা করতে পারবে - এমন ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এই রায়কে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার ঘোষিত রায়ে বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যদি দেশগুলো সর্বোচ্চ উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তা প্যারিস চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এই মতামত আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে প্রযোজ্য হবে।”

রায় অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও জীবনের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার রাখে। তবে ক্ষতিপূরণ মামলা কেস বাই কেস ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় ঐতিহাসিকভাবে দায়ী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ সহজ হবে। যদিও এই রায় বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আইসিজের আগের মতামত বিভিন্ন দেশের সরকার কার্যকর করেছে।

নিম্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের একদল শিক্ষার্থীর প্রস্তাবে শুরু হয় এই মামলা। ভানুয়াতুর শিক্ষার্থী ফ্লোরা ভানো বলেন, “আজ রাতে আমি শান্তিতে ঘুমাবো। আমাদের কষ্টের স্বীকৃতি দিল আদালত। এটি শুধু আমাদের নয়, সব ক্ষতিগ্রস্ত দেশের জয়।”

এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি হয়েছে ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিপূরণ আদায়ে চূড়ান্তভাবে দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছাই গুরুত্বপূর্ণ হবে। আইসিজের এখতিয়ারে না থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশগুলো সরাসরি মামলা এড়াতে পারলেও, জাতীয় বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আদালতে এই রায়ের প্রভাব থাকবে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল’র সিনিয়র অ্যাটর্নি জোই চৌধুরী বলেছেন, “এই ঐতিহাসিক রায় জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকারদের প্রতিকার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণও রয়েছে।”

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়ের ফলে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের লড়াই বিশ্বব্যাপী নতুন মাত্রা পাবে এবং উন্নত দেশগুলোর ওপর নৈতিক ও আইনি চাপ আরও বাড়বে।