ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বেশি বালিশ রাখেন? হতে পারে যেসব সমস্যা

ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ না থাকলে অনেকেরই অস্বস্তি হয়। তাই আরাম করে ঘুমাতে অনেকে নিজের পছন্দমতো বালিশ ব্যবহার করেন। কেউ কেউ আবার মাথা একটু উঁচুতে রাখার জন্য একটির বদলে দুই-তিনটি বালিশও নেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বালিশে ঘুমালে সকালে ঘাড়ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘুমের সময় ঘাড়ে চাপ পড়ে কীভাবে

ঘাড়ের মেরুদণ্ডের অংশে হাড়ের পাশাপাশি ডিস্ক, লিগামেন্ট ও বিভিন্ন পেশি রয়েছে। ঘুমের সময় মাথা ও ঘাড়ের অবস্থান ঠিক না থাকলে এসব অংশে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বালিশ খুব উঁচু হলে মাথা স্বাভাবিক অবস্থানের তুলনায় ওপরে উঠে যায়। তখন ঘাড় সামনের দিকে বা এক পাশে বেঁকে থাকতে পারে।

ঘুমের কয়েক ঘণ্টা সময় এভাবে থাকার ফলে ঘাড়ের পেশি ও জোড়ায় চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে বালিশের উচ্চতা ঠিক না হলে ঘাড়ের এক পাশে বেশি চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

অতিরিক্ত মোটা বালিশে মাথা ও ঘাড়ের স্বাভাবিক অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে। এর প্রভাব সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে।

কী ধরনের সমস্যা হতে পারে

বালিশ প্রয়োজনের তুলনায় উঁচু হলে ঘুমের সময় মাথা ও ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। এর ফলে -

  • ঘাড় সামনের দিকে বা এক পাশে বেশি বাঁকা হয়ে যেতে পারে
  • ঘাড়কে স্থির রাখতে কাজ করা পেশিতে দীর্ঘ সময় চাপ পড়তে পারে
  • সকালে ঘাড়ে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হতে পারে;
  • কাত হয়ে ঘুমালে ঘাড়ের কোনো এক পাশে তুলনামূলক বেশি চাপ পড়তে পারে

ঘাড়ে ব্যথা হলে কী করবেন

ঘাড়ে ব্যথা শুরু হলে জোর করে স্ট্রেচ করা বা ফোম রোলার দিয়ে ঘাড়ে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। ব্যথা বাড়ে না এমন সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে ঘাড় নড়াচড়া করা যেতে পারে। পাশাপাশি বালিশের উচ্চতা ঠিক আছে কি না এবং ঘুমের ভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন কি না, সেটিও খেয়াল করা দরকার।

কাত হয়ে ঘুমানোর সময় বালিশ সঠিক উচ্চতায় রাখতে হবে, যাতে কাঁধ ও মাথার মাঝের জায়গাটি যথেষ্ট সাপোর্ট পায়। তবে বালিশের কারণে মাথা যেন শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠে না যায়।

বালিশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই মাপ বা উচ্চতা ঠিক নয়। শরীরের গঠন, কাঁধ কতটা চওড়া, কীভাবে ঘুমান এবং গদি কতটা শক্ত - এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার। বালিশের দাম বেশি হলেই সেটি ঘাড়ের জন্য ভালো হবে, এমন নয়; বরং সঠিক উচ্চতা ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ঘাড়ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যথা ঘাড় থেকে হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।